দেশের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন—এমন বিশ্বাস দেশের মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ নাগরিকের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সদ্য প্রকাশিত ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৬৪টি জেলায় জরিপটি পরিচালিত হয়। ফল প্রকাশ করা হয়েছে আজ, ১৯ জুন। জরিপে অংশ নিয়েছেন দেশের ৮ লাখ ৩১ হাজার ৮০৭ জন নাগরিক, যাঁরা প্রত্যেকেই ১৮ বছরের বেশি বয়সী। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ১ হাজার ৯২০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে।
রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে নগর ও গ্রামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। নগরের ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং গ্রামের ২৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, তাঁরা রাজনৈতিক বিষয়ে মত দিতে পারেন।
তবে নারীদের মধ্যে মত প্রকাশের আস্থা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ৩১ দশমিক ৮৬ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, তাঁরা সরকারের কার্যক্রম নিয়ে মত প্রকাশ করতে পারেন। সেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৩ দশমিক ০২ শতাংশ।
রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের প্রভাব সম্পর্কিত প্রশ্নে দেখা গেছে, মাত্র ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন, তাঁরা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারেন। পুরুষদের মধ্যে এই হার ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, নারীদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, গত দুই বছরে কোনো বিরোধে জড়ানো নাগরিকদের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে বিচার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বিচার পেয়েছেন আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে এবং ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থায়।
জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ নাগরিক কোনো না কোনো বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নারীদের মধ্যে এ হার ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, পুরুষদের ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শহর এলাকায় বৈষম্যের হার ২২ দশমিক ০১ শতাংশ, গ্রামীণ এলাকায় তা ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।
বৈষম্যের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান (৬ দশমিক ৮২ শতাংশ) এবং লিঙ্গ (৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ)। এসব বৈষম্যের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে নিজ বাড়িতে (৪৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ), এরপর রয়েছে পাবলিক পরিবহন বা উন্মুক্ত স্থান (৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ) এবং কর্মক্ষেত্র (২৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ)।
তবে বৈষম্যের শিকারদের মধ্যে মাত্র ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। অর্থাৎ, এসব ঘটনার বড় একটি অংশেই অভিযোগ বা প্রতিকার চাওয়া হয়নি।
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) ১৬-এর আওতায় নিরাপত্তা, সুশাসন, সেবা, দুর্নীতি, বিচারপ্রাপ্তি ও বৈষম্য বিষয়ে নাগরিকদের মতামত ও অভিজ্ঞতা জানতে এই জরিপ করা হয়।
জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, এসডিজি ১৬-এর লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। সুরক্ষা, সুশাসন, সেবার মান, দুর্নীতিদমন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিতে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন