বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীন থেকে ১২টি অত্যাধুনিক জে-১০সি (J-10C) মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফরে এই সামরিক ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গত মার্চ মাসে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই যুদ্ধবিমানগুলো ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। চীনা প্রেসিডেন্ট এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সফরের আগে থেকেই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা চলছিল, তবে শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায়।
‘ভিগোরাস ড্রাগন’ নামে পরিচিত জে-১০সি একটি চতুর্থ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা আকাশ থেকে আকাশে ও ভূমিতে নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। এর পাল্লা প্রায় ২০০ কিলোমিটার এবং এতে স্টেলথ প্রযুক্তি রয়েছে, যা শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করে।
এই সামরিক ক্রয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নিঃসন্দেহে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েরই সম্পর্ক উন্নয়ন হলেও, বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিকভাবে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে স্বাগত জানালেও, সামরিক সহযোগিতাকে তারা বরাবরই আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখে।
এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেন, “এই ক্রয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোতে হবে। এই চুক্তি পশ্চিমা বিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্কে কোনো ঝুঁকি তৈরি করে কি না, তা গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
সব মিলিয়ে, একদিকে যেমন বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন জরুরি, তেমনই এই চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন